জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ২ মার্কিন সেনা, নিখোঁজ আরও ১

জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ২ মার্কিন সেনা, নিখোঁজ আরও ১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলা প্রতিহত করার সময় দুই সেনা প্রাণ হারান। এ ছাড়া আহত চার সেনাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা দায়িত্বে ফিরেছেন। আরও কয়েকজন সামান্য আহত সেনাও চিকিৎসা নিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।

নিহত ও নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার সময় তারা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

এক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর প্রাণহানি বেড়ে ১৬

জর্ডানের এই হামলার পর চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা

গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও এক মাসের মধ্যেই সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন,
“বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা বা কার্যকারিতা নেই।”


উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন।

উত্তেজনা আরও বেড়েছে

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ দুই দেশের বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।



Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance