কোয়াড বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা, শীর্ষ সম্মেলন এখনও অনুপস্থিত—আঞ্চলিক কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা

কোয়াড বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা, শীর্ষ সম্মেলন এখনও অনুপস্থিত—আঞ্চলিক কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা

নয়াদিল্লিতে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে Quadrilateral Security Dialogue: শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন অনিশ্চিত থাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে।



ছবি : রয়টার্স


চলতি সময়ে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একাধিক কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত 'কোয়াড নিরাপত্তা সংলাপ'–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা চলতি বছরে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কূটনীতিকরা বছরের শেষ দিকে একটি বৈঠকের প্রস্তুতির দিকে কাজ করবেন।


বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিয়মিত বৈঠক না হওয়ায় কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন উঠলেও এর গুরুত্ব কমে গেছে—এমনটা বলা যায় না। মেলবোর্নভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ নীতিগত গবেষক প্রেমেশা সাহা বলেন, “শীর্ষ সম্মেলন না থাকলেও এর মানে এই নয় যে গুরুত্ব কমে গেছে। যদি কোয়াড মন্ত্রী পর্যায় ও কার্যকরী পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে এটি নেতাদের বৈঠক ছাড়াও প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবে।”


কোয়াডভুক্ত দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কো রুবিও সম্প্রতি “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।


চীনের অবস্থান ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

চীন দীর্ঘদিন ধরে কোয়াডকে একটি “শীতল যুদ্ধ ধাঁচের জোট” হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে, যার উদ্দেশ্য তাদের উন্নয়নকে সীমিত করা। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা অবশ্যই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে গঠিত হওয়া উচিত নয়। তিনি “এক্সক্লুসিভ জোট বা ব্লকভিত্তিক সংঘাত” গঠনের বিরুদ্ধেও অবস্থান জানান।


কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে দেশগুলো “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন”। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত এলাকায় সামরিকীকরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।


এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও নিন্দা জানানো হয়েছে। কোয়াড দেশগুলো হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অংশের মালিকানা দাবি করে চীন সেখানে একাধিক সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের অংশ দাবি করছে। একইভাবে পূর্ব চীন সাগর নিয়েও চীন ও জাপানের মধ্যে আলাদা বিরোধ রয়েছে।


ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।


বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ সম্মেলন না হলেও যদি কোয়াড নিয়মিতভাবে মন্ত্রী পর্যায়ের সহযোগিতা ও বাস্তব প্রকল্প চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


ছবি ও সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance