প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, সরকার ঢাকা-সিলেট করিডরে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কারণে যাতায়াতে অস্বাভাবিক সময় ব্যয় হচ্ছে এবং যাত্রীসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ সড়কের উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছু বিলম্ব হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সমস্যা নিরসনে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পরিবহন নিশ্চিত করতে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সুরমা নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আদলে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী, এবং তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবেন।এছাড়া তিনি সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতের উন্নয়নের বিষয়েও আলোকপাত করেন। সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করে পর্যায়ক্রমে তা ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের চিহ্নিত ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনার মতো ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে।
সরকারের অল্প সময়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অন্যান্য প্রতিশ্রুত প্রকল্পসমূহও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদনি ঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন ও বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং সফরের শুরুতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
