পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

                  সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এই লক্ষ্যে সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এই খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে এবং তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খসড়া অনুমোদনের পর খুব শিগগিরই কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে। প্রয়োজনে নীতিমালা প্রণয়ন ও আইনগত কাঠামো তৈরি করে দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নীতিমালার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিদ্যমান নীতিমালাগুলো পর্যালোচনা করে এমনভাবে সহজ করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা।

এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি, তবে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন একটি বড় বিনিয়োগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ইউনিট খরচ ৪ থেকে ৮ টাকার মধ্যে হতে পারে বলেও তিনি জানান।

প্রকল্পটি মূলত বেসরকারি খাতে বাস্তবায়িত হবে। সরকার সহযোগিতা ও নীতিগত সহায়তা দেবে, তবে প্রধান বিনিয়োগকারী হবে বেসরকারি উদ্যোক্তারা। এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।

আগের সৌর প্রকল্পগুলো তেমন কার্যকর না হওয়ায় সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নতুন পরিকল্পনায় বাস্তবায়নযোগ্য দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বড় পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ট্রান্সমিশন লাইনের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ ও মিটারিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ছোট প্রকল্পগুলো কার্যকর হয় না বলেও তিনি বলেন।

সরকার নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় জমি প্রদান করবে, যা বর্তমানে প্রণয়নাধীন। জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি অব্যবহৃত জমিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের খরচ আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ খাতের ব্যবসায়ীদের ইকুইপমেন্ট আমদানির ওপর উচ্চ করের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে এবং কর কাঠামো আরও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে।

চীনের একটি বড় সৌর কোম্পানির সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তারা আগ্রহী হলে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিদ্যমান নিয়ম সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশের জায়গা ব্যবহার করে ছোট-বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে পূর্বের কিছু সৌর প্রকল্প প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল না হওয়ায় নতুন করে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সচিব জানান, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হবে—এদিন কোনো ছুটি থাকবে না, তবে প্রতিবছর যথাযথভাবে পালন করা হবে। এছাড়া ৭ নভেম্বরকে আগের মতোই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও যানজট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। তবে বাজারের অস্থিরতা ও কিছু ব্যবসায়িক আচরণের কারণে জ্বালানি বিতরণে বিঘ্ন ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে এবং সরকারি সহায়তায় বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ করা হবে।

শেষে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কমিটি দ্রুত একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে কাজ শুরু করবে।

Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance