ট্রাম্প–ইরান সম্পর্ক: অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে কি সম্ভব নতুন চুক্তি?

ট্রাম্প–ইরান সম্পর্ক: অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে কি সম্ভব নতুন চুক্তি?

            যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই গভীর মতবিরোধ বিরাজ করছে। পরমাণু কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা—বিভিন্ন ইস্যুতে এই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। তবে সম্ভাব্য কোনো শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারস্পরিক আস্থার সংকট।

ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকে। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রতি তাদের অবিশ্বাস আরও বেশি। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে হওয়া পরমাণু চুক্তি ট্রাম্প নিজের প্রথম মেয়াদেই বাতিল করে দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান চুক্তি ভঙ্গ করেছিল—এমন অভিযোগও তিনি তোলেননি; বরং চুক্তিটি তাঁর পছন্দ হয়নি বলেই তা থেকে সরে আসেন।


               

                    পরে জো বাইডেন প্রশাসন একই ধরনের নতুন চুক্তির চেষ্টা করলে ইরান ভবিষ্যতে চুক্তি বাতিল না করার নিশ্চয়তা চেয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। ফলে সন্দেহ আরও গভীর হয়। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাও ইরানের অবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

সম্প্রতি কূটনৈতিক যোগাযোগ হলেও তা বারবার ভেস্তে গেছে। ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবিশ্বাস দুই পক্ষেরই। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান গোপনে সামরিক উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইরান বিশ্বাস করে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় আলোচনার মাঝেই অবস্থান বদলে দিতে পারে।

কার্নেগি এনডোমেন্টের বিশ্লেষক করিম সাদজাদপুরের মতে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আস্থার মাত্রা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন।

তবুও কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো এমন হতে হবে, যাতে কোনো পক্ষই সহজে তা থেকে সরে যেতে না পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে হয়তো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে বা ত্যাগ করতে হতে পারে, যা একটি বড় এবং বাস্তবধর্মী ছাড়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ছাড়—যেমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—সহজেই পরিবর্তনযোগ্য, যা ইরানের সন্দেহ আরও বাড়ায়।

সব মিলিয়ে, অতীতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং গভীর অবিশ্বাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির পথ এখনও জটিল ও দীর্ঘ। দ্রুত কোনো বড় অগ্রগতি আসার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance