উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সরকারের প্রথম বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাতকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১১ জুন এই সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বাজেটে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছি, যাতে দেশের ব্যবসায়ীরা—তারা বাণিজ্যিক খাতের হোন কিংবা শিল্প উদ্যোক্তা—স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।’
তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও দ্রুততর করা, আমদানি-রপ্তানি নীতি হালনাগাদ, অশুল্ক বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার উদ্যোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে সমন্বয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থাও সহজ করা হচ্ছে।
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু এবং পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল, বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা আরও বাড়বে।
অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের নীতিগত দুর্বলতা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশ। তবে ব্যবসা ও বিনিয়োগে গতি আনতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক ফল পেতে কিছু সময় লাগবে।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক নীতির সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। বর্তমান সরকার যে সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ নিচ্ছে, তার ইতিবাচক প্রভাবও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।’
সুদের হার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সুদের হার কমালেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে অর্থনীতির স্বার্থে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রবাসী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে বিনিয়োগ আনতে পারলে বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
