শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার, দিল্লির রাজপথে ফিরল নীরবতা
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এরপর মধ্যরাতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নেমে আসে নীরবতা।

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে কয়েক দিন ধরে সংসদ ভবনের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ এই বিক্ষোভস্থলে অবস্থান নিয়েছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারী। তাদের আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দৃঢ় ও শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা সরে যাওয়ার পর রোববার ভোরে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের সময় দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন স্লোগান ও গ্রাফিতি পেইন্ট রোলার ও বালতি ব্যবহার করে মুছে ফেলা হয়।
শনিবার বিক্ষোভস্থলে দেওয়া শেষ বক্তব্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, “এটা শেষ নয়। শিগগিরই আমাদের আবার দেখা হবে।”
এখন প্রশ্ন উঠেছে, আন্দোলন প্রত্যাহারের পর ভারতের তরুণ বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
প্রধান দাবিগুলো কী ছিল?
গত কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে বেশ কিছু দাবি সামনে এলেও শেষ পর্যন্ত দুটি প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আন্দোলনকারীদের হিসাব অনুযায়ী, এমন প্রায় ২০টি পরিবার রয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শনিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আইন ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী “সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতিপূরণ” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি
গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। ওই ঘটনার পর আন্দোলনটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করে।
এরপর আন্দোলনের নেতারা আরও দুটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো—বিক্ষোভকারী ও আন্দোলনের সংগঠকদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না করা এবং পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) পক্ষ থেকে দমন-পীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়া।
সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ফৌজদারি মামলা করা হবে না। পাশাপাশি চলমান মামলাগুলোও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও শিক্ষা সংস্কার, পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
