সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

ভারতে মুসলিম নির্যাতন, গণহত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস, সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন 'হেযবুত তওহীদ'কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।


শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সোনাদিঘীর মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশের জনগণের এখন আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই, সবাইকে জেগে উঠতে হবে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত বর্তমানে ইসরায়েলের মতো আচরণ শুরু করেছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করার এখনই উপযুক্ত সময়।"

ভারতের মোদি সরকারের সমালোচনা করে তারা বলেন, "সে দেশে মুসলমানদের নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই অবৈধ পুশ-ইন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম দেশ সংস্কার হবে। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের নামে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কালো আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে, যা তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, "দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও আমাদের সীমান্তে বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হয়নি। ৫০ বছর আগের খেলনা অস্ত্র দিয়ে ভারতের আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে হবে।"

বক্তারা আরও বলেন, "চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের মতো লুটপাট চালালে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে।"

গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, "হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত ও সমালোচিত ধর্মভিত্তিক সংস্কারবাদী সংগঠন। এই সংগঠনটি মুসলমানদের ঈমান-আকিদা ধ্বংস করছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সাথে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী 'ইসকন' কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপন কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে।" দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।


বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী।সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা।যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ।হেফাজতে ইসলামের জেলার যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান।সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্র বিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ।



Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance